কখন কী বলতে হবে

 Admin   March 12, 2019

কখন কী বলতে হবে


 

কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য Thank You বলা ইসলামী সংস্কৃতি বা ইসলামী শিষ্টাচারের মধ্যে পড়ে না। তা ছাড়া, এ অভিব্যক্তি প্রকাশে আপনি কোনো সওয়াবও পাচ্ছেন না। বরং আপনি যদি কারো কৃতজ্ঞতা আদায় করতে চান তাহলে ইসলামের সুন্দর শব্দ ‘জাজাকাল্লাহ’ বলতে পারেন। যার অর্থ হলো ‘আল্লাহ আপনাকে এর বদলা দিন’ প্রতি উত্তরে অপর পক্ষ বলবে ‘হাইয়্যাকাল্লাহ’ অর্থাৎ আল্লাহ আপনাকে দীর্ঘজীবী করুন। তাহলে উভয়েই উপকৃত হবেন। তা ছাড়া এগুলো হলো, আল্লাহর জিকর তথা আল্লাহর স্মরণ-এর অন্তর্ভুক্ত।
আল্লাহর স্মরণ করার অর্থ হলো, মুখে সব সময় সব ব্যাপারেই কোনো না কোনোভাবে আল্লাহর নাম উচ্চরিত হবে। যেকোনো কথা-বার্তা ও কাজে-কর্মে চেতনে-অবচেতনে আল্লাহর নাম চলে আসবে। তবে এরূপ অবস্থা সৃষ্টি হওয়া খুব সহজ ব্যাপার নয়। কোনো লোকের মধ্যে এরূপ অবস্থা ততক্ষণ পর্যন্ত সৃষ্টি হয় না যতক্ষণ তার হৃদয়ে আল্লাহর চিন্তা-খেয়াল সম্পূর্ণ দৃঢ়মূল হয়ে না যাবে। চেতনার স্তর হতে অবচেতন ও অনবচেতন পর্যন্ত আল্লাহর চিন্তা গভীর হয়ে গেলেই একজন লোকের এ অবস্থা হতে পারে যে, সে যে কাজই করবে আর যে কথাই বলবে তাতে আল্লাহর নাম সে অবশ্যই উচ্চারণ করবে। যেমন খাওয়ার আগে বিসমিল্লাহ, খাওয়ার পর আলহামদুলিল্লাহ, বিছানায় যেতে এবং শয্যা ত্যাগের সময় আল্লাহকে স্মরণ করবে। সাধারণ কথা বার্তায় মুখে বারেবারে বিসমিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, ইনশা’আল্লাহ, মাশা’আল্লাহ, সুবহান’আল্লাহ ও অনুরূপ অর্থের অন্যান্য শব্দ বা বাক্য বের হতে থাকবে। নিজের সব ব্যাপারে আল্লাহর রহমত ও সাহায্যের প্রার্থনা করবে। আল্লাহর প্রতিটি নিয়ামতের জন্য আল্লাহর শোকরিয়া আদায় করবে। বিপদ-মুসিবত ও বিভিন্ন জটিলতার জন্য শুধু আল্লাহর দিকে মুখ করবে এবং আল্লাহরই সাহায্যের মুখাপেক্ষী হবে। মোট কথা উঠতে-বসতে, চলতে-ফিরতে ও দুনিয়ার সব কাজ করতে আল্লাহর স্মরণ-আল্লাহর নাম করাই হবে তার স্থায়ী নিয়ম। প্রকৃতপক্ষে এটিই হচ্ছে ইসলামী জীবনের প্রাণশক্তি।
 
সুতরাং Thank You, Good Bye, Tata, Good Morning, Congratulation ইত্যাদি অনৈসলামী সংস্কৃতি। অনৈসলামী সংস্কৃতি আপনার বা অন্যের কোনো ফল বয়ে আনে না। তাই এগুলো পরিত্যাগ করুন ও ইসলামী সংস্কৃতির শব্দগুলো চালু করুন। এখানে এ ধরনের ইসলামী সংস্কৃতির কিছু শব্দ আপনাদের জন্য উল্লেখ করা হলো। এগুলো যদি আপনি আপনার প্রাত্যহিক জীবনে চালু করতে পারেন, তাহলে আপনার জীবনধারায় পরিবর্তন আসবে। ইনশা-আল্লাহ।
যেমন:
কারো সাক্ষাতে  আসসালামু আলাইকুম বলুন।
প্রতিউত্তরে- ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ বলুন।
কোনো কাজ শুরুর আগে বিসমিল্লাহ বলুন।
শুভ সংবাদ শুনে আলহামদুলিল্লাহ বলুন।
ছেলেমেয়ে বা অন্যের ভালো সংবাদে মাশা-আল্লাহ বলুন।
আল্লাহর মহিমার কোনো সংবাদে সুবহান-আল্লাহ বলুন।
মন্দ কাজ হতে দেখলে নাউজুবিল্লাহ বলুন।
 
আপনার দ্বারা কোনো অন্যায় হয়ে গেলে সাথে সাথে আসতাগফিরুল্লাহ বলুন।
কোনো কাজ পরে করবেন বলে ওয়াদা করেছেন- ইনশা-আল্লাহ বলুন।
কারো কৃতজ্ঞতা প্রকাশে- জাজাকা-আল্লাহ বলুন।
এর প্রতিউত্তরে হাইয়্যাকা’আল্লাহ বলুন।
আল্লাহর সাহায্যের জন্য লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ বলুন।
কারো কাছ থেকে বিদায় নেয়ার সময় আল্লাহ হাফেজ বা ফি-আমানিল্লাহ বলুন।
এ ছাড়া আপনার অন্যান্য কার্যক্রমে মাসনুন দোয়াগুলো অভ্যাস করুন। শুরুতে বলা হয়েছে, এগুলো জিকিরের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘(তারাই বুদ্ধিমান) যারা উঠতে, বসতে ও শয়নে সব অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে এবং আকাশ ও পৃথিবীর গঠনাকৃতি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করে (আপনা আপনি বলে উঠে) হে আমাদের রব! এসব তুমি অনর্থক ও উদ্দেশ্যবিহীনভাবে সৃষ্টি করোনি। বাজে ও নিরর্থক কাজ করা থেকে তুমি পাক-পবিত্র ও মুক্ত। কাজেই হে প্রভু! জাহান্নামের আজাব থেকে আমাদের মুক্ত করো।’ (সূরা আলে ইমরান: ১৯১) আল্লাহ তা’আলা বলেন, ‘আর দেখো, কোনো জিনিসের ব্যাপারে কখনো এ কথা বলো না, আমি কাল এ কাজটি করবো। তবে যদি আল্লাহ চান।’(সূরা কাহফ:২৩-২৪) অর্থাৎ ‘ইনশা-আল্লাহ’ বলবে।
বিজাতীয় সংস্কৃতির বাক্যগুলো পরিহার করে কুরআন ও সুন্নাহর নির্দেশিত বাক্যগুলো প্রয়োগ করুন। মাত্র কয়েক দিন চেষ্টা করুন। দেখবেন মনের অজান্তেই শব্দগুলো আপনার মুখ থেকে বেরিয়ে আসছে। আপনার প্রাত্যহিক অভ্যাসে পরিণত হবে। ইনশা-আল্লাহ্। 
লেখক : ব্যাংকার

কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য Thank You বলা ইসলামী সংস্কৃতি বা ইসলামী শিষ্টাচারের মধ্যে পড়ে না। তা ছাড়া, এ অভিব্যক্তি প্রকাশে আপনি কোনো সওয়াবও পাচ্ছেন না। বরং আপনি যদি কারো কৃতজ্ঞতা আদায় করতে চান তাহলে ইসলামের সুন্দর শব্দ ‘জাজাকাল্লাহ’ বলতে পারেন। যার অর্থ হলো ‘আল্লাহ আপনাকে এর বদলা দিন’ প্রতি উত্তরে অপর পক্ষ বলবে ‘হাইয়্যাকাল্লাহ’ অর্থাৎ আল্লাহ আপনাকে দীর্ঘজীবী করুন। তাহলে উভয়েই উপকৃত হবেন। তা ছাড়া এগুলো হলো, আল্লাহর জিকর তথা আল্লাহর স্মরণ-এর অন্তর্ভুক্ত।

আল্লাহর স্মরণ করার অর্থ হলো, মুখে সব সময় সব ব্যাপারেই কোনো না কোনোভাবে আল্লাহর নাম উচ্চরিত হবে। যেকোনো কথা-বার্তা ও কাজে-কর্মে চেতনে-অবচেতনে আল্লাহর নাম চলে আসবে। তবে এরূপ অবস্থা সৃষ্টি হওয়া খুব সহজ ব্যাপার নয়। কোনো লোকের মধ্যে এরূপ অবস্থা ততক্ষণ পর্যন্ত সৃষ্টি হয় না যতক্ষণ তার হৃদয়ে আল্লাহর চিন্তা-খেয়াল সম্পূর্ণ দৃঢ়মূল হয়ে না যাবে। চেতনার স্তর হতে অবচেতন ও অনবচেতন পর্যন্ত আল্লাহর চিন্তা গভীর হয়ে গেলেই একজন লোকের এ অবস্থা হতে পারে যে, সে যে কাজই করবে আর যে কথাই বলবে তাতে আল্লাহর নাম সে অবশ্যই উচ্চারণ করবে। যেমন খাওয়ার আগে বিসমিল্লাহ, খাওয়ার পর আলহামদুলিল্লাহ, বিছানায় যেতে এবং শয্যা ত্যাগের সময় আল্লাহকে স্মরণ করবে। সাধারণ কথা বার্তায় মুখে বারেবারে বিসমিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, ইনশা’আল্লাহ, মাশা’আল্লাহ, সুবহান’আল্লাহ ও অনুরূপ অর্থের অন্যান্য শব্দ বা বাক্য বের হতে থাকবে। নিজের সব ব্যাপারে আল্লাহর রহমত ও সাহায্যের প্রার্থনা করবে। আল্লাহর প্রতিটি নিয়ামতের জন্য আল্লাহর শোকরিয়া আদায় করবে। বিপদ-মুসিবত ও বিভিন্ন জটিলতার জন্য শুধু আল্লাহর দিকে মুখ করবে এবং আল্লাহরই সাহায্যের মুখাপেক্ষী হবে। মোট কথা উঠতে-বসতে, চলতে-ফিরতে ও দুনিয়ার সব কাজ করতে আল্লাহর স্মরণ-আল্লাহর নাম করাই হবে তার স্থায়ী নিয়ম। প্রকৃতপক্ষে এটিই হচ্ছে ইসলামী জীবনের প্রাণশক্তি।

সুতরাং Thank You, Good Bye, Tata, Good Morning, Congratulation ইত্যাদি অনৈসলামী সংস্কৃতি। অনৈসলামী সংস্কৃতি আপনার বা অন্যের কোনো ফল বয়ে আনে না। তাই এগুলো পরিত্যাগ করুন ও ইসলামী সংস্কৃতির শব্দগুলো চালু করুন। এখানে এ ধরনের ইসলামী সংস্কৃতির কিছু শব্দ আপনাদের জন্য উল্লেখ করা হলো। এগুলো যদি আপনি আপনার প্রাত্যহিক জীবনে চালু করতে পারেন, তাহলে আপনার জীবনধারায় পরিবর্তন আসবে। ইনশা-আল্লাহ।

যেমন:

কারো সাক্ষাতে  আসসালামু আলাইকুম বলুন।

প্রতিউত্তরে- ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ বলুন।

কোনো কাজ শুরুর আগে বিসমিল্লাহ বলুন।

শুভ সংবাদ শুনে আলহামদুলিল্লাহ বলুন।

ছেলেমেয়ে বা অন্যের ভালো সংবাদে মাশা-আল্লাহ বলুন।

আল্লাহর মহিমার কোনো সংবাদে সুবহান-আল্লাহ বলুন।

মন্দ কাজ হতে দেখলে নাউজুবিল্লাহ বলুন।

আপনার দ্বারা কোনো অন্যায় হয়ে গেলে সাথে সাথে আসতাগফিরুল্লাহ বলুন।

কোনো কাজ পরে করবেন বলে ওয়াদা করেছেন- ইনশা-আল্লাহ বলুন।

কারো কৃতজ্ঞতা প্রকাশে- জাজাকা-আল্লাহ বলুন।

এর প্রতিউত্তরে হাইয়্যাকা’আল্লাহ বলুন।

আল্লাহর সাহায্যের জন্য লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ বলুন।

কারো কাছ থেকে বিদায় নেয়ার সময় আল্লাহ হাফেজ বা ফি-আমানিল্লাহ বলুন।

এ ছাড়া আপনার অন্যান্য কার্যক্রমে মাসনুন দোয়াগুলো অভ্যাস করুন। শুরুতে বলা হয়েছে, এগুলো জিকিরের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘(তারাই বুদ্ধিমান) যারা উঠতে, বসতে ও শয়নে সব অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে এবং আকাশ ও পৃথিবীর গঠনাকৃতি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করে (আপনা আপনি বলে উঠে) হে আমাদের রব! এসব তুমি অনর্থক ও উদ্দেশ্যবিহীনভাবে সৃষ্টি করোনি। বাজে ও নিরর্থক কাজ করা থেকে তুমি পাক-পবিত্র ও মুক্ত। কাজেই হে প্রভু! জাহান্নামের আজাব থেকে আমাদের মুক্ত করো।’ (সূরা আলে ইমরান: ১৯১) আল্লাহ তা’আলা বলেন, ‘আর দেখো, কোনো জিনিসের ব্যাপারে কখনো এ কথা বলো না, আমি কাল এ কাজটি করবো। তবে যদি আল্লাহ চান।’(সূরা কাহফ:২৩-২৪) অর্থাৎ ‘ইনশা-আল্লাহ’ বলবে।

বিজাতীয় সংস্কৃতির বাক্যগুলো পরিহার করে কুরআন ও সুন্নাহর নির্দেশিত বাক্যগুলো প্রয়োগ করুন। মাত্র কয়েক দিন চেষ্টা করুন। দেখবেন মনের অজান্তেই শব্দগুলো আপনার মুখ থেকে বেরিয়ে আসছে। আপনার প্রাত্যহিক অভ্যাসে পরিণত হবে। ইনশা-আল্লাহ্। 

লেখক : ব্যাংকার